শিশু ধর্ষণের মামলায় মাদ্রাসাশিক্ষকের মৃত্যুদণ্ডাদেশ

চট্টগ্রামে ১২ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের মামলায় এক মাদ্রাসা শিক্ষককে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। তাঁর নাম মো. ইসমাইল (৪৬)। তিনি চট্টগ্রাম নগরের একটি মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক ও চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার চরম্বার বাসিন্দা।
আজ সোমবার বিকেলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫ চট্টগ্রামের বিচারক সাইদুর রহমান গাজী এই রায় দেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫ সরকারি কৌঁসুলি আকবর আলী প্রথম আলোকে বলেন, ধর্ষণের মামলায় আদালত আসামি মাদ্রাসার শিক্ষককে মৃত্যুদণ্ড, এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেন।
আদালত সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ১২ বছর বয়সী মাদ্রাসার এক ছাত্রকে ধর্ষণ করা হয়। পরে ৫ অক্টোবর মাদ্রাসায় তার মা সাক্ষাৎ করতে গেলে তার তলপেটে ব্যথার কথা জানায়। অসুস্থ থাকায় বাসায় আসার পথে ওই শিক্ষার্থী তার মাকে ধর্ষণের বিষয়টি জানায়। পরে বিষয়টি পুলিশ ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষককে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এই ঘটনায় শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে চকবাজার থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে শিক্ষককে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয়। নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে আদালত এই রায় দেন।
খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্বামীকে হত্যা, লাশ ফেলা হয় খালে

রাঙামাটিতে সাড়ে চার মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন এক ব্যক্তি। তাঁর স্ত্রী আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে স্বামীকে খুনের এমন বিবরণ তুলে ধরেছেন।খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্বামীকে খাওয়ান স্ত্রী। এরপর স্বামী গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে তাঁকে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাস রোধ করে খুন করেন। পরে দুই ব্যক্তির সহযোগিতায় লাশটি খালে ফেলে দেন স্ত্রী।রাঙামাটিতে সাড়ে চার মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন এক ব্যক্তি। তাঁর স্ত্রী আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে স্বামীকে খুনের এমন বিবরণ তুলে ধরেছেন। একই ঘটনায় তাঁর দুই সহযোগীও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
নিখোঁজ থাকা ওই ব্যক্তির নাম দিদার আলম (২৮)। তিনি রাঙামাটি জেলার চন্দ্রঘোনা থানার পশ্চিম কোদালা গ্রামের বাসিন্দা। তাঁকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করা হলেও এখন পর্যন্ত তাঁর লাশের সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় কোহিনূর ছাড়া জবানবন্দি দেওয়া অপর দুজন হলেন দিদারের প্রতিবেশী মো. হামজা ও মো. সেলিম। দিদার নিখোঁজ থাকার ঘটনায় এ ছাড়া মো. খালেক নামে এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার রয়েছেন।গত ৩০ মে দিদার নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় দিদারের বাবা জামির হোসেন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপরও দিদারের সন্ধান না মেলায় গত জুলাই মাসে দিদারের স্ত্রী কোহিনূর আক্তার ও আবদুল খালেক নামে ওই ব্যক্তিকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন জামির হোসেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য ২৭ জুলাই পিবিআইকে নির্দেশ দেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআই চট্টগ্রামের জেলা পরিদর্শক রুহুল আমিন প্রথম আলোকে বলেন, তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকা থেকে কোহিনূর ও খালেককে ৪ অক্টোবর গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ১০ অক্টোবর কোহিনূর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এ সময় তিনি স্বামীকে হত্যার বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরেছেন।
রুহুল আমিন জানান, কোহিনূর আদালতকে জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে মো. হামজা ও খালেকের পরকীয়া ছিল। হামজার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি দিদার জানতেন না, তবে খালেকের বিষয়টি জানতেন। এ কারণে কোহিনূরের সঙ্গে দিদারের প্রায়ই ঝগড়া হতো, কোহিনূরকে মারধরও করতেন দিদার। মারধরের বিষয়টি কোহিনূর হামজাকে জানালে তিনি দিদারকে হত্যার পরামর্শ দেন। হামজা দিদারকে হত্যার উদ্দেশ্যে চারটি ঘুমের ওষুধ কোহিনূরকে এনে দিয়েছিলেন। ঘটনার রাতে ওষুধগুলো খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে দিদারকে খাওয়ান কোহিনূর। পরে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন দিদারকে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাস রোধ করে খুন করা হয়।
কোহিনূর জবানবন্দিতে বলেছেন, স্বামীকে খুনের সময় হামজা ও তাঁর সহযোগী সেলিম পার্শ্ববর্তী পশ্চিম কোদালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে বসে লুডু খেলছিলেন। কোহিনূর স্বামীকে হত্যার বিষয়টি সেখানে গিয়ে তাঁদের জানান। এরপর ধান শুকানোর প্লাস্টিকের চাটাই দিয়ে দিদারের লাশ মুড়িয়ে হামজা ও সেলিমের সহযোগিতায় পাশের খালে ফেলে দেওয়া হয়। সেদিন অঝোরে বৃষ্টি হওয়ায় লাশটি পানির স্রোতে ভেসে যায়।
পিবিআই জানায়, কোহিনূরের জবানবন্দির পর হামজা ও সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরাও ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে গত শনিবার আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।