আইন সংশোধন বিষয়ে তামাক কোম্পানির সাথে বৈঠক আন্তর্জাতিক চুক্তির লঙ্ঘন

সৈয়দ শাকিল: সরকারের পক্ষ থেকে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনটি সংশোধনের মাধ্যমে অধিকতর শক্তিশালী করার যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে তা অত্যন্ত প্রশংসার দাবীদার। কিন্তু তামাক কোম্পানিগুলো সরকারের জনস্বাস্থ্য রক্ষার এই মহান উদ্যোগকে ব্যাহত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা নিজেদের অংশীজন দাবী করে আইন সংশোধনে মতামত দিতে চাইছে যা সুস্পষ্টভাবে এফসিটিসি আর্টিকেল ৫.৩ এর লঙ্ঘন। এই বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিয়ে আজ বাংলাদেশ টোব্যাকো কন্ট্রোল এডভোকেডস (BTCA) ও বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (BATA) এর যৌথ উদ্যোগে একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি ও ভ্রাম্যমান ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়। উক্ত প্রতিবাদ কর্মসূচি ও ভ্রাম্যমান ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক আইন, বিধিমালা বা নীতি প্রণয়নে তামাক কোম্পানি বা তাদের সহযোগীদের মতামত গ্রহণ না করাসহ ‘সব নীতিতে স্বাস্থ্যকে প্রাধান্য’ (Health in All Policies) বাস্তবায়নে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় জোরদার করার দাবি তুলে ধরা হয়। একইসাথে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন দ্রুত সংশোধনের মাধ্যমে শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়।

০৬ অক্টোবর ২০২৫ (সোমবার) বিকাল ৩.০০ টায় “আইন নিয়ে তামাক কোম্পানির সাথে কোন আলোচনা নয়” এই প্রতিপাদ্যকে কেন্দ্র করে উক্ত প্রতিবাদ কর্মসূচি ও ভ্রাম্যমান ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়। প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ টোব্যাকো কন্ট্রোল এডভোকেডস, বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট, এইড ফাউন্ডেশন, ডাস্, নাটাব, মানস, টিসিআরসি, নারী মৈত্রী, আইডাব্লিউবি এবং ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট এর প্রতিনিধিসহ বিএমএসএস, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধিসহ শিক্ষার্থীগণ। প্রতিবাদ কর্মসূচি শেষে ভ্রাম্যমান ক্যাম্পেইনটি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে যাত্রা শুরু করে জাতীয় সংসদ ভবন, এনবিআর, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, প্রেসক্লাব প্রদক্ষিণ করে দাবিগুলো জানানো হয়।

উক্ত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য উৎপাদন ও বিপণনের সাথে জড়িত কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান কোনভাবেই সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রচেষ্টার স্টেকহোল্ডার হতে পারে না। স্টেকহোল্ডার বা অংশীজন মূলত তারাই, যারা একই লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য অর্জনের সহযোগী। বাংলাদেশ সরকার তথা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশ্য তামাকজনিত রোগ ও মৃত্যু কমানো এবং জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন। অপরদিকে, তামাক কোম্পানির লক্ষ্য ক্ষতিকর পণ্য সম্প্রসারনের মাধ্যমে মুনাফা অর্জন। কাজেই সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী ও সাংঘর্ষিক উদ্দেশ্য নিয়ে তামাক কোম্পানি সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রচেষ্টায় নিজেদের অংশীজন দাবি করে আইন সংশোধনে মতামত দিতে পারে না ।

বক্তারা আরো বলেন, কোম্পানির প্রভাবমুক্ত নীতিনির্ধারণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে, এফসিটিসি স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্র হিসেবে কোন দেশেরই তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক আইন, বিধিমালা বা নীতি প্রণয়নে তামাক কোম্পানি বা তাদের সহযোগীদের মতামত গ্রহণ করা যৌক্তিক নয় এবং তা একইসাথে আন্তর্জাতিক চুক্তির লঙ্ঘন । বিগত দিনে, তামাক নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে যখনই কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে তখনই কোম্পানিগুলোকে সরকার ও নীতিনির্ধারকদেরকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত এবং বিভ্রান্ত করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত হতে দেখা গেছে। এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি)-এর আর্টিকেল ৫.৩ এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট এর দপ্তর সম্পাদক সৈয়দা অনন্যা রহমান প্রেরিত বার্তায় বক্তারা আরও বলেন, কোম্পানিগুলো মূলত কিশোর তরুণদের তামাক সেবনে উৎসাহিত করে ব্যবসা বাড়াতে চায়। রাষ্ট্রের প্রতিটি সংস্থার দায়িত্ব আগামী প্রজন্মকে তামাকের সর্বনাশা ছোবল থেকে রক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনীর প্রস্তাবনাকে সমর্থন করা এবং তামাক কোম্পানির কূটকৌশলকে প্রতিহত করা। সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারের ৩৫টি মন্ত্রণালয়/বিভাগ অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সব নীতিতে স্বাস্থ্যকে প্রাধান্য দেয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। কাজেই উক্ত প্রতিশ্রুতি এবং এফসিটিসি বাস্তবায়নে তামাক কোম্পানির প্রভাব প্রতিহত করে দ্রুত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনটি সংশোধনের মাধ্যমে শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি।

খাগড়াছড়িতে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগী আদিবাসী শিশুর শারীরিক পরীক্ষার প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হতে অতিসত্ত্বর সরিয়ে ফেলা, দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ভুক্তভোগীর সার্বিক গোপনীয়তা ও সুরক্ষা নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছে ধর্ষণ আইন সংস্কার জোট


নিপুন বড়ুয়া: দেশে বিদ্যমান আইনে যৌন ও লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতায় ভুক্তভোগী ব্যক্তির পরিচয় সংশ্লিষ্ট যে কোন তথ্যাদি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তা সত্ত্বেও, খাগড়াছড়িতে ধর্ষণের ভুক্তভোগী আদিবাসী শিশুর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ভঙ্গ করে তার শারীরিক পরীক্ষার প্রতিবেদনের মত সংবেদনশীল একটি প্রতিবেদন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে ধর্ষণ আইন সংস্কার জোট। আইন বিরুদ্ধ এ কাজের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ, ভুক্তভোগী শিশুর সার্বিক গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুক্তভোগী শিশুর পরিচয় ও তার শারীরিক পরীক্ষার প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট প্রকাশিত তথ্য অতিসত্ত্বর সরিয়ে ফেলা এবং এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের বিশেষ আবেদন জানাচ্ছে ধর্ষণ আইন সংস্কার জোট।   

উল্লেখ্য যে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখ খাগড়াছড়ির সদর উপজেলার সিঙ্গিনালা এলাকায় অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত এক মারমা শিশুর দলবদ্ধ ধর্ষণ ঘটনার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ ঘটনায় সংক্ষুব্ধ হয়ে পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা অজ্ঞাত পরিচয়ের তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করলে; এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে অদ্যবধি একজনকে আটক করা হয়। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন থেকে এ ধর্ষণ অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ভুক্তভোগীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত ও যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানের জোরালো দাবি তোলা হয়।

ইতোমধ্যে অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করা যায় যে, গত ১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ ভুক্তভোগী শিশুর শারীরিক পরীক্ষার প্রতিবেদনের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রদর্শন পূর্বক জানানো হচ্ছে যে, শারীরিক পরীক্ষার প্রতিবেদনে ধর্ষণ পরীক্ষার ১০টি সূচকের সব কটিতে স্বাভাবিক লেখা রয়েছে। অর্থাৎ ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায় নি।  

উল্লেখ্য যে, সংবাদ মাধ্যমে এভাবে যৌন ও লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতায় ভুক্তভোগী ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট যে কোন তথ্যাদির প্রকাশ বিদ্যমান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত অধ্যাদেশ ২০২৫) এর ধারা ১৪ এর অধীনে শাস্তিযোগ্য একটি অপরাধ। একইসাথে, শুধুমাত্র ধর্ষণ অপরাধই নয়; যে কোন ধরণের যৌন ও লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতায় ভুক্তভোগী ব্যক্তির শারীরিক পরীক্ষার প্রতিবেদন অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। এ প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট যে কোন তথ্য ন্যায় বিচারের স্বার্থে শুধুমাত্র আদালত ব্যতীত; অন্য যে কোন মাধ্যম তথা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ করা উক্ত ভুক্তভোগী ব্যক্তির জন্যে চরম অবমাননাকর এবং অসম্মানজনক।

ঢাকার মিরপুরে রূপনগর আবাসিক এলাকায় রাসায়নিক গুদামে ক্যামিকেল বিস্ফোরণে গুদাম ও পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে শ্রমিক নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনায় শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম- এসএনএফ এর গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ এবং ঘটনার যথাযথ তদন্ত ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি

মোহাম্মদ ইউসুফ: গত ১৪ অক্টোবর ঢাকার মিরপুরে রূপনগর আবাসিক এলাকায় অনুমোদনহীন রাসায়নিক গুদামে ক্যামিকেল বিস্ফোরণে গুদাম ও পাশের পোশাক কারখানার ওয়াশিং ইউনিট ”শাহ আলী ওয়াশিং লিমিটেড”-এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৬ জন শ্রমিক নিহত ও অনেকের আহত হওয়ার ঘটনায় শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম- এসএনএফ গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করছে। পাশাপাশি, আমরা, এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত শ্রমিক ও আহত শ্রমিকসহ তাদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার যথাযথ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।  

মিডিয়া সূত্রে জানা যায়, আবাসিক এলাকায় অনুমোদনহীনভাবে উক্ত রাসায়নিক গুদাম ও পাশে একটি পোশাক কারখানার ওয়াশিং ইউনিট পরিচালনা করা হতো। কোনও ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া এ ধরনের কারখানা পরিচালনা করা বেআইনি এবং এসব কারখানা পরিচালনাকারী ব্যক্তিসহ তাদের সাথে জড়িত সকলকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। পাশাপাশি, পোশাক কারখানার ওয়াশিং ইউনিটের ছাদের সিঁড়িতে তালা থাকায় শ্রমিকরা বের হতে পারেনি বলে জানা গেছে। এ ধরনের কার্যকলাপ কেবল বেআইনিই নয় বরং চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে আমরা মনে করি।

সাম্প্রতিক সময়ে ক্যামিকেল বিস্ফোরণে বড় ধরনের বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে, অথচ কোনও ঘটনারই উপযুক্ত বিচার ও শাস্তি চোখে পড়েনি। এছাড়াও, রানা প্লাজা হত্যাকাণ্ড কিংবা তাজরীণ অগ্নিকাণ্ড ইত্যাদি ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কারও কোনও শাস্তি হয়নি। ইতোপূর্বে বেইলি রোড ও সেজান জুস কারখানায় অগ্নিকাণ্ড এবং এ সংক্রান্ত সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও জবাবদিহিতা এবং প্রয়োজনীয় ও কার্যকর কোনও উদ্যোগ না থাকায় ধারাবাহিকভাবেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে বলে আমরা মনে করি। বিভিন্ন সময় সংঘটিত দুর্ঘটনাসমূহের বিচার ও শাস্তি না হ্ওয়া এবং আইনের দুর্বলতা একের পর এক এসব দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। এ ধরনের ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলছে, আর অসাধু মানুষদের লোভের বলি হচ্ছে অসহায় শ্রমজীবী মানুষ। শিল্প-কারখানায় সংঘটিত এসব দুর্ঘটনার যথাযথ তদন্ত, দায়ী ব্যক্তিদের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। 

শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম এর ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব,সেকেন্দার আলী মিনা প্রেরিত বার্তায় উপরোক্ত ঘটনায় নাগরিক সমাজ বিশেষভাবে ট্রেড ইউনিয়ন, শ্রমিক অধিকার ও মানবাধিকার সংগঠনের সম্পৃক্ততায় তদন্ত পরিচালনা করার দাবি জানান।

বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২৫

নিরাপদ খাদ্যের যোগান নিশ্চিতে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান

মিরাজ মুনির: খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্যানুসারে বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৭ কোটি ৭১ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ খাবার থেকে বঞ্চিত এবং ২০২৩ সালে প্রায় ১ কোটি ১৯ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ছিল। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি সংগঠন, সুশীল সমাজ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। আজ ১৬ অক্টোবর ২০২৫ বিশ্ব খাদ্য দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে সকাল ১১.০০টায় বিসেফ ফাউন্ডেশন, ফুড সেফটি অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ, ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর সম্মিলিত উদ্যোগে সংস্থার কৈবর্ত সভাকক্ষে আয়োজিত ‘নিরাপদ খাদ্যের যোগান নিশ্চিতে সম্মিলিত প্রয়াস’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।

ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের কমিউনিকেশন অফিসার শানজিদা আক্তারের সঞ্চালনায় এবং সংস্থার পরিচালক গাউস পিয়ারী এর সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিসেফ ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী রেজাউল করিম সিদ্দিক। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেন্টার ফর ল এন্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্সের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম, প্রশিকা-র ডেপুটি ডিরেক্টর (এগ্রিকালচার) সুমনা রানী দাস এবং ইউগ্লেনা গ্যাংকি-র ডেপুটি ম্যানেজার জনাব শাহীদ আলম চৌধুরী।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় রেজাউল করিম সিদ্দিক বলেন, উন্নত খাদ্য বলতে সেই খাদ্যকে বোঝায় যা পুষ্টিকর, নিরাপদ এবং মানুষের  সাধ্যের মধ্যে। ব্যাপক খাদ্য অপচয় এমন একটি ভারসাম্যহীন ব্যবস্থার দিকে যাচ্ছে যার ফলে অনেক স্থানে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার তীব্রতা অপ্রতিরোধ্য। জলবায়ু পরিবর্তন, অসম উৎপাদন ও অসম বন্টন, দূর্বল ব্যবস্থাপনা এবং সঠিক মনিটরিংয়ের অভাবে বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ৬৭৩ মিলিয়ন মানুষ ক্ষুধার্ত জীবনযাপন করছে। এক্ষেত্রে সচেতনতামূলক প্রচারণা, গবেষণা ও প্রযুক্তি সহায়তা, কৃষকদের ভর্তুকী প্রদান এবং টেকসই নীতি ও পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারি- বেসরকারি ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

এডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম বলেন, বাংলাদেশে খাদ্য সম্পর্কিত ২৫টি আইন থাকলেও কোন নীতিমালা বা বিধিমালা নেই। খাদ্যের বিভিন্ন অনিয়ম থাকার মূল কারণ মন্ত্রণালয়গুলোর মাঝে আন্তঃসম্পর্ক না থাকা। খাদ্যের উৎপাদন থেকে সংগ্রহ, পরিবহন, বিপণন প্রতিটি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরী। পাশাপাশি নাগরিক হিসেবে আমাদেরও কিছু দায়িত্ব রয়েছে। নিজেদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে দেশের খাদ্য সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।

সুমনা রানী দাস বলেন, দেশের মানুষের খাদ্য চাহিদা মেটাতে অনেকটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ছাদ বাগান বা ছাদ কৃষি। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে ছাদে বা বারান্দায় খুব অল্প জায়গায় জনসাধারণ তার প্রয়োজনীয় নিরাপদ সবজি উৎপাদন করতে পারে। ঢাকার উত্তর-দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে মোট ৬৫০০টি ছাদ বাগান রয়েছে। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা নিজেরাই চাহিদা অনুযায়ী নিরাপদ সবজি উৎপাদন করতে পারছে।

জনাব শাহীদ আলম চৌধুরী বলেন, শিশুদের খাদ্য নিরাপত্তা একটি বড় বিষয়। এক্ষেত্রে আমরা শিশুদের পুষ্টির চাহিদা পূরণে স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকি। পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিতে সম্মিলিত কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে দেশ ও কমিউনিটিকে নিরাপদ খাদ্যের দিকে একধাপ এগিয়ে নিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

সভাপতির বক্তব্যে গাউস পিয়ারী বলেন, খাদ্য শুধু মানবাধিকার নয়, এটি টেকসই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনো দেশই উন্নয়নের প্রকৃত সুফল পেতে পারে না। পৃথিবীতে আজও কোটি কোটি মানুষ পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাদ্য পাচ্ছে না, অন্যদিকে একটি বড় অংশ খাদ্যের অপচয়ের সাথে যুক্ত। খাদ্য নিরাপত্তা, অপুষ্টি, দারিদ্র্য এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থার বিষয়ে সচেতন করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট মিডিয়ার অফিসার নাজমুন নাহার প্রেরিত বার্তায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, ঢকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুল, এইড ফাউন্ডেশন, লোটাস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, বারসিক, ডিজেবল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, ধানমন্ডি কচিকন্ঠ হাই স্কুল, শেরে বাংলা আইডিয়াল স্কুল, রায়ের বাজার উচ্চ বিদ্যালয়, টোবাকো কন্ট্রোল রিসার্স সেল, বিসেফ ফাউন্ডেশন, ফুড সেফটি অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ, ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর কর্মকর্তাবৃন্দ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *